राजनीति के बीच ‘रंगमिलांती’! बीजेपी प्रत्याशी ने बजाया मादल, तो झूम उठीं टीएमसी उम्मीदवार!

নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর যেখানে সারা রাজ্য রাজনৈতিক হিংসা আর কাদা ছোড়াছুড়িতে উত্তপ্ত, ঠিক তখনই বাঁকুড়ার জঙ্গলমহল থেকে ভেসে এল একমুঠো টাটকা বাতাসের মতো সৌজন্যের ছবি। আদিবাসীদের পবিত্র ‘বাহা’ উৎসবে রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেলেন তৃণমূল ও বিজেপি প্রার্থী। রানীবাঁধের আদিবাসী সংস্কৃতি যেন বুঝিয়ে দিল, লড়াই কেবল মতাদর্শের, অন্তরের টান আজও অটুট।

মাদলের বোলে পা মেলালেন প্রতিদ্বন্দ্বীরা শাল-মহুল ঘেরা রানীবাঁধ বাজারে গত রাতে আয়োজিত হয়েছিল ‘বাহা বঙা’ বা ফুলের উৎসব। সেই উৎসবে শামিল হয়েছিলেন রানীবাঁধ বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী ক্ষুদিরাম টুডু। ধুতি পরে আদিবাসী পুরুষদের সঙ্গে কাঁধে মাদল তুলে নিয়ে বোলে ঝড় তোলেন তিনি। ঠিক সেই মুহূর্তেই সেখানে উপস্থিত হন তৃণমূল প্রার্থী তনুশ্রী হাঁসদাও। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে দেখে পিছিয়ে না গিয়ে বরং তাঁর মাদলের তালের সঙ্গেই পা মেলালেন তিনি। আদিবাসী রমণীদের সঙ্গে হাতে হাত রেখে দীর্ঘক্ষণ নাচ করেন তৃণমূল প্রার্থী।

একই সঙ্গে প্রসাদ গ্রহণ ও সম্প্রীতির বার্তা নাচ-গানের পর দুই শিবিরের যুযুধান দুই প্রার্থী একসঙ্গে বসে খিচুড়ি প্রসাদ গ্রহণ করেন। ক্ষুদিরাম টুডু এবং তনুশ্রী হাঁসদা—উভয়েই সংবাদমাধ্যমকে জানান, জঙ্গলমহলের আদিবাসী সংস্কৃতির মূলে রয়েছে ঐক্য। রাজনীতি রাজনীতির জায়গায়, কিন্তু নিজেদের উৎসবে তাঁরা সবাই এক। আদিবাসীদের দেবতা ‘মারাং বুরু’ ও ‘জাহের আয়ো’-র চরণে নিবেদিত শালফুলের সৌরভ যেন রাজনীতির তিক্ততাকে ছাপিয়ে গেল। বাঁকুড়ার এই ছবি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল, যা দেখে সাধারণ মানুষ বলছেন— “এমন সৌজন্যের রাজনীতিই তো কাম্য।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *